Bangla Language। বাংলা ভাষা
-
শিবরাত্রি
পুরাণের শিব প্রধানত পুরুষের আরাধ্য। উপোস করে শিবের মাথায় জল ঢেলে শিবরাত্রি পালনের যে ব্রত মেয়েদের শেখানো হয়েছে, সেটি পিতৃতন্ত্রের ঐতিহাসিক কারসাজি।
-
মকর সংক্রান্তি
ভারতে ‘বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য’ নিয়ে আমরা অনেক কথা বলে থাকি, কিন্তু কথাটার সত্য অর্থ উপলব্ধি করতে চাইলে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। যেমন, এমন নানা উত্সব আছে, যেগুলির ঐতিহাসিক উত্স বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম, অথচ অনেক জায়গাতেই যেগুলি বছরের কোনও একটি সময়েই উদ্যাপিত হয়ে আসছে।
-
দিল্লির দরবারে বাঙালি? খুঁজি খুঁজি নারি
বছর কয়েক আগে আমি যখন ভারত সরকারের সংস্কৃতি সচিব ছিলাম, তখন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের তিন জন অফিসার কেন্দ্রীয় সার্কেলের বিভিন্ন মন্ত্রকে সচিব পদে ছিলেন। বাঙালি, কিন্তু অন্য রাজ্যের ক্যাডারের অফিসার, এমন কয়েকজন ছিলেন অর্থ মন্ত্রকে, যোজনা কমিশনে। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের পুলক চট্টোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সচিব হয়েছিলেন। ফিকিতে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। সি. আই. আই.-এর প্রধান সচিব ছিলেন তরুণ দাস। দুজন নন- আই.এ.এস. সচিব ছিলেন বিজ্ঞানবিষয়ক মন্ত্রকে — একজন পারমানবিক শক্তি দফতরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, আর অন্য জন সি.এস.আই.আর-এ।
-
আগেভাগে লক্ষ্মীপুজো করে লাভ কী হল
এই উৎসবের প্রথম উল্লেখ পাই রামায়ণে, রামচন্দ্র যখন যুদ্ধজয় করে সীতাকে নিয়ে ফিরলেন, তখন অযোধ্যার ঘরে ঘরে দীপালিকায় আলো জ্বলেছিল। সেখানে অবশ্য লক্ষ্মীর কোনও নামগন্ধ নেই। তৃতীয় বা চতুর্থ শতাব্দীতে রামায়ণের মোটামুটি সমসাময়িক বাত্স্যায়নের কামসূত্রে যক্ষের রাত্রির কথা আছে, যে রাতে ছোট ছোট প্রদীপ জ্বালিয়ে জনপদ সাজাতে হয়। এটি এক লোকাচার, যা ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র ক্রমশ গ্রহণ করে নিয়েছিল। কিন্তু এখানেও লক্ষ্মীর কোনও প্রত্যক্ষ উল্লেখ নেই। অবশ্য যক্ষ থেকে যেমন ঐশ্বর্যের দেবতা কুবের এলেন, লক্ষ্মী যদি তেমনই এসে থাকেন, তা হলে আলাদা কথা। তবে এটা ঠিকই যে, পুরাণের দেবী লক্ষ্মী এক সময় যক্ষদের দীপালোকিত রাত্রির উৎসবটি নিজের করে নেন।
-
ঋতুপর্ণ, রবীন্দ্রনাথ আর ছত্রিশ মাসে বছর
আজ দূরদর্শনে রাত সাড়ে দশটায় ‘জীবনস্মৃতি: সিলেক্টেড মেমরিজ্’ দেখানো হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিষয়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের তথ্যচিত্র। সর্বভারতীয় দর্শকদের জন্য তৈরি ছবি, তাই ইংরাজিতে — সত্যজিৎ রায়ের তথ্যচিত্রটির মতোই। ছবিটা যে অবশেষে দেখানো হবে, এটা প্রবল স্বস্তির খবর — কী অসম্ভব দেরি হল যদিও। ঋতুর সঙ্গে যত বারই কথা হয়েছে, মনে হত এই সরকারি দীর্ঘসূত্রতায় বড্ড হতাশ হয়ে পড়েছে। সরকারি কাজে এতটা দেরি কেন হয়, ও সেটা বুঝতেই পারত না। আজ ঋতু থাকলে খুশি হত। ওর জন্য অন্তত এইটুকু করা আমাদের কর্তব্যই ছিল।
-
চিৎপুরের রাস্তায় হেরিটেজ ওয়াক তো হতেই পারে
কলকাতার ট্রাম, বিশেষ করে ময়দান ও সংলগ্ন এলাকায়, একটা বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। সহজেই আমরা কয়েকটি রংচঙে ট্রাম শুধুমাত্র স্থানীয় এবং বিদেশী পর্যটকদের জন্য রেখে দিতে পারি। চিৎপুর রোডের কথাই ধরা যাক। রাস্তাটার আনাচে - কানাচে ইতিহাসের গন্ধ। কিন্তু গাড়িঘোড়ার ভিড় ঠেলে যাওয়াটা বিরাট সমস্যা। ধীরগতির ট্রামে বসে চিৎপুর রোড ধরে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।
-
অন্য সুনীলদা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে কবে প্রথম দেখেছি ঠিক মনে পড়ে না। মনে আছে, তারাপদ রায়ের ওখানে এক আড্ডায় একদিন তাঁকে দেখলাম, বয়সে তরুণ, কালো মোটা ফ্রেমের চশমার নীচে এক জোড়া সন্ধানী চোখ। তারাপদবাবু যেখানে খুব প্রাণবন্ত, সরস আর তাঁর পাঞ্চলাইনগুলো দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাতিয়ে রাখতেন, সুনীলদা সেখানে অনুচ্চ, কাউকে ইমপ্রেস করার কোনও দায় নেই তাঁর। হয়তো গ্লাস হাতে আরামে বসে আছেন এক কোণে, কোনও গুণমুগ্ধ তরুণীকে মিষ্টি করে বলছেন, তার চোখ দুটো ভারী সুন্দর। তাঁর এই স্বচ্ছ¨, স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথনের ঢঙই তাঁর লেখায় এনেছিল এক অনায়াস, বিরল গতিময়তা।
-
বাঙালির হাজার বছর
শতক-অন্ত তো এ বার সহস্রান্তিকও বটে! এ কথা ভাবলেই নিতান্ত নির্বিরোধী মানুষও ভেতরে ভেতরে চাপা উত্তেজনা অনুভব করবেন। দুটো বিষয় নিশ্চয়ই সকলেরই মনে হবে. এক দিকে পিছন ফিরে চাওয়া-পাওয়ার সালতামামি; অন্য দিকে ভবিষ্যদর্শনের প্রয়াস, কী আছে ভাগ্যে। এ দেখা ব্যক্তিবিশেষ বা তার পরিপার্শ্ব ছাড়িয়ে বিস্তৃত হতে পারে তার অঞ্চল, রাজ্য, রাষ্ট্র এমনকি সমগ্র মানবতা পর্যন্তও। আমার অবশ্য বাঙালি সমাজের বাইরে এই বিহঙ্গ দর্শন প্রসারিত করার মতো জ্ঞানবুদ্ধি বা যোগাযোগ কোনওটাই নেই। সীমাবদ্ধতা আছে সেটুকুর মধ্যেও। তবু এ নিয়ে একটা আড্ডা শুরু করার লোভও সামলাতে পারছি না। অবশ্য দু-চার পাতায় হাজার বছরের কথা আলোচনার ঔদ্ধত্য আমার নেই। কোন দিক থেকে দেখতে চাই, সেটা বোঝাতে আমি শুধু কয়েকটা বিশেষ যুগ বা নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের কথাই তুলবো।
Page 8 of 8
