Bangla Language। বাংলা ভাষা
-
এক এবং অদ্বিতীয়া ইন্দিরা
২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতারা ধারণা করেছিলেন, তিনি যেহেতু রোগা-পাতলা এবং অভিজ্ঞতাহীন, তাই তারা তাঁকে ‘শোভাময়ী’ প্রধানমন্ত্রী করে রেখে নিজেরাই ক্ষমতা চালাবেন।
কিন্তু প্রথম দিন থেকেই তিনি নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন এবং প্রবীণ, মধ্যম ও প্রতিভাবান নবীন মন্ত্রীদের নিয়ে নিজের একটি ছোট দল গঠন করেন—যেমন প্রণব মুখার্জি। এরা কংগ্রেসের পুরনো গোষ্ঠীর রক্ষণশীল নীতি থেকে এতটাই সরে আসতে শুরু করলেন যে ১৯৬৯ সালে তাঁকেই—দেশের প্রধানমন্ত্রীকে—কংগ্রেস দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।
-
গানের ওপারে
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আবারও নতুন উদ্যমে তাঁর নিন্দার্হ কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত 'আমার সোনার বাংলা' গানটি গাওয়াকে 'রাষ্ট্রদ্রোহিতা' বলে দাগিয়ে দিলেন। তাঁর চোখে এমন কাজ করে যিনি কাঠগড়ায় 'আসামী', তিনি অসমের শ্রীভূমি জেলার এক বাঙালি কংগ্রেস নেতা, যিনি সরল মনে বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি সহজাত আবেগ থেকেই গানটি গেয়েছিলেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি — ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ যখন এই নিৰ্দিষ্ট গানটি তাদের জাতীয় সংগীত হিসাবে বেছে নিয়েছে তারপরও ভারতে থেকে এই গান গাওয়ার একটাই অর্থ — দেশের প্রতি বিস্বাসঘাতকতা। (অথচ কোন নথিতে এই গানের 'প্রোপাইটরি রাইট' বা কপিরাইট কেনার কথা উল্লিখিত বাংলাদেশের তরফে, তা বাপু জানা নেই. হেমন্তেরও জানা নেই — নিশ্চিত।) আমার কৌতুহলী মনে প্রশ্ন জাগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তো বাংলায় প্রচারে এসে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আকর্ষণ করার জন্য উচ্চকণ্ঠে 'আমার সোনার বাংলা' বলে আহবান জানান, যার ভিডিও প্রমাণও সুলভ, তবে কি হিমন্ত তাঁকেও 'রাষ্ট্রদ্রোহী' বলে দাগিয়ে দেবেন?
-
বাংলার ফারসি উত্তরাধিকার
আমরা সকলেই জানি অষ্টম শতক থেকেআরব ব্যবসায়ী ও ধর্মপ্রচারকদের সঙ্গে ইসলামিসংস্কৃতি বাংলায় প্রবেশ করেছিল। আর এও জানি যে১২০৪ সালে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ারখিলজি বাংলার সেন বংশকে উৎখাত করে শাসনক্ষমতা দখল করেন। এর পরেই ইসলামের প্রভাববিস্তার হতে থাকে। এভাবে পূর্ব দিকে বাংলা হয়ে ওঠেদিল্লির নব্য প্রতিষ্ঠিত সুলতান বংশের অন্যতমপ্রদেশ।
-
আমার চোখে পুজো
ওদের নবরাত্রি, আমাদের দুর্গা। আদি নবরাত্রি উৎসব ছিল বসন্তকালে, চৈত্র মাসে। কিন্তু নিঃসন্দেহে, শারদীয় নবরাত্রি বা অকালবোধনকে (মহালয়ার পর থেকে মহানবমী অব্দি) ভারতে এক বৃহৎ অঞ্চলে অনেক বেশি গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়।
এই ন’ দিনের ক্ষেত্রে মা দুর্গা নিয়ে সারা ভারত একমত হলেও ভারতের অন্যান্য প্রদেশের থেকে বাঙালির উৎসব প্রায় সবসময়ই যথেষ্ট আলাদা। প্রথমে দেখা যাক দুটি ট্র্যাডিশান কেমন পাশাপাশি চলে এসেছে। এক দিকে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের ভগবান রামচন্দ্রদের পুজো যা প্রচুর ঘটা করে শেষ হয় দশেরার দিন রাবণ বধ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আর পাশাপাশি পূর্ব ভারতে মা দুর্গার যুদ্ধ আর জয়ের উৎসব। এই দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয় এই বলে যে রামচন্দ্র রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে অসময়ে দুর্গাপুজো করেছিলেন। কৃত্তিবাসের রামায়ণে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে। -
স্মৃতি আর শিউলি গাঁথা
এই শিউলি ফুল দেখে আমার একটা বড় দুঃখের কথা মনে পড়ল। আমি সারা জীবনের কোনও দিন গ্রামে মাটির বাড়িতে থাকিনি, পুকুরে স্নান করিনি, মাছ ধরিনি, গাছ থেকে মনের আনন্দে ফুল আর ফল তুলিনি। আমাদের গ্রাম ওপারে — এখন আর গ্রাম বলা যায় না, উপ শহর — পাকা রাস্তা, পাকা বাড়ি, আলো পাখা, ইত্যাদি। বাবা ১৯৭১এ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁর গ্রামে গিয়ে একেবারে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। সব এত ভয়ঙ্কর ভাবে বদলে গেছে — ভাল তো লাগলো কিন্তু বেদনা, প্রচুর ব্যথা পেয়েছিলেন — আরও গভীর। তিনি আর জীবনে কোনও দিন গ্রামে ফেরেন নি।
-
লন্ডন নাহয় না-ই হল
কলকাতা লন্ডন কবে হবে জানি না। কিন্তু কলকাতা যেন পৃথিবীর সবচেয়ে দৃষ্টিকটু ছেঁড়া-ন্যাকড়া রাজধানী হওয়ার কলঙ্কচিহ্ন থেকে মুক্তি পায়, এটুকু তো আমরা চাইতে পারি। একেবারে নির্জন কয়েকটি রাস্তা বাদ দিলে এই মহানগরের কোনও একটি ফুটপাত-ও নেই, যেখানে এই বিগত কয়েক বছরে সকলের চোখের সামনে হকাররা দখল করেননি। গড়িয়াহাট-রাসবিহারী, নিউ মার্কেট-এসপ্ল্যানেড বা বিধান সরণির কথা বলছি না। ওখানে তো কত ঐতিহ্য আছে— সেই প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায় আর সুভাষ চক্রবর্তীর ‘অপারেশন সানশাইন’-ও আমরা দেখেছি। হটিয়ে দেওয়ার পর নতুন স্টল যখন বসে, শুধু পাড়ার লিডার আর পুলিশের রেট বেড়ে যায়।
-
দেশ ও দ্বেষ
এমন অনেকে রয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় যাঁরা গুরুত্ব দিতে চান না, কিন্তু যখন বিজেপির বাঙালি ও বাংলা ভাষাকে সমূলে বিনাশ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, তখন কিন্তু তাঁর কথায় আমল না-দিয়ে তাঁদের আর উপায় রইল না। একমাথা বর্ষায়, ২১ জুলাই, কলকাতার কেন্দ্রস্থলে হাজার-হাজার অনুরাগী সমর্থক তথা বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। এরপর রবি ঠাকুরের বোলপুর থেকে হিন্দি ভাষার সাম্রাজ্যবাদী বিস্তারের বিরুদ্ধে শুরু করলেন 'দ্বিতীয়' ভাষা আন্দোলন।
-
বিপত্তারিণী পূজা
আজকের বিপত্তারিণী পূজা আমাদের দেশে যে শত শত বিচিত্র উৎসব পালন করা হয় — তারই মধ্যে একটি। রথ যাত্রা আর উল্টো রথের মাঝের মঙ্গল ও শনিবার এই দেবীর পূজা কড়া হয় — সকল বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্যে। পশ্চিম ও উত্তর ভারতে যেমন বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য গণেশ কে পূজা করে, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা রাজ্যের অনেক অঞ্চলে বিপত্তারিণীর পূজা হয়। তিনি দেবী সঙ্কটনাশিনী এবং দেবী দুর্গা(পার্বতী)-এর ১০৮ অবতারের অন্যতম। দেবী দুর্গার ১০৮ টি রূপের মধ্যে অন্যতম হলেন দেবী সংকটনাশিনী আর বিপত্তারিণী তাঁরই এক স্বরূপ।
-
আপনি, তুমি, তুই...
জানি না আপনারা লক্ষ করেছেন কিনা, আজকাল বাংলার যুব সম্প্রদায় নির্বিকারে প্রায় সকলকেই 'তুমি' বলে সম্বোধন করে। এ প্রবণতা যেন দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এখন আর অবাক লাগে না যখন কোনও এক অচেনা তরুণ এসে আমায় বলে, “কাকু (বা জেঠু, বা দাদু)— তুমি একটু সরে বোসো না।” -
আমরা হেরে যাইনি
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বাংলায় প্রায় ২৬০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিল হচ্ছে। এই রকম আঘাতের পর, বোঝাই যাচ্ছে, বাংলা আবার উত্তাল হতে চলেছে, আবার এক বা একাধিক আন্দোলন শুরু হব হব করছে। মুখ্যমন্ত্রী এটা আঁচ করে, মরিয়া হয়ে এক হাত খেললেন। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে শিক্ষকদের ডাকলেন আর চেষ্টা করলেন গরম হাওয়াটা তাঁর পালের দিকে টানতে। কিন্তু তিনি কোনও স্পষ্ট আশ্বাস তো দিতে পারেনইনি, বরং জল আরও ঘোলা করে দিলেন। উনি শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় স্কুলে পড়াতে যাওয়ার কথা বলেছেন।
-
আজ বাঙালীর গোটা সেদ্ধ
রবি ও সোমবার সরস্বতী পুজোর পর অনেক বাঙালির বাড়িতে, বিশেষ করে ঘটি পরিবারদের মধ্যে, গোটা সেদ্ধ খাওয়া হয়ে থাকে। আসুন জেনে নিই কেন এই গোটা সেদ্ধর প্রথা মানা হয়। পঞ্চমীর দিন সরস্বতী পুজোর পরেরদিনই সকালে ষষ্ঠী তিথিতে হয় ষষ্ঠী পুজো আর গোটা সেদ্ধ পর্ব।
-
রাধাপ্রসাদ গুপ্ত: প্রবন্ধ সংগ্রহ ২ এর মুখবন্ধ । বাণীশিল্প প্রকাশনী
সব সৃজনশীল ব্যক্তিদের মতো রাধাপ্রসাদ গুপ্ত — যাঁকে সকলে RP বা শাঁটুলবাবু বা 'দা' সম্বোধন করত । তিনি নিজের সৃষ্টি বা রচনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন, তাঁর লেখা গুছিয়ে রাখার কাজে সময় নষ্ট করতেন না ৷ আমরা কেউ জিজ্ঞেস করলে তিনি হঠাৎ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন, এবং তাঁর আরাম কেদারায় বসে চিন্তা করতেন। তারপর লাফিয়ে উঠতেন আর একগাদা কাগজ ফাইল ঘেঁটে অনেকক্ষণ পরে একটি হাতে লেখা বা টাইপ করা কাগজ বের করে বলতেন “এই দেখ। হতভাগাটাকে পেলুম। কোথায় কোথায় যে লুকিয়ে থাকে! আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি এটি অমুকের জন্যে লিখেছিলেন লিখেছিলাম।” আমরা ওই লেখা পড়তাম আর প্রয়োজন হলে তাঁর খাওয়ার টেবিলে বসে নিজের হাতে কপি করতাম। জেরক্স টেরক্স ছিল না।
-
প্রাচীর ভাঙার শক্তি কোথায় পেলেন?
মনমোহন সিংহ কখনও নিজের সমস্যা নিয়ে অন্যের কাছে মুখ খুলতেন না। নীরবে যন্ত্রণা সহ্যকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর তাই আমরা প্রায় জানিই না তাঁর স্বাস্থ্য কতটা ভেঙে পড়েছিল, আজ আচম্বিতে চলে যাওয়ার পর যেন সম্বিৎ ফিরল।
-
ওদের নবরাত্রি, আমাদের দুর্গা দুর্গা
আদি নবরাত্রি উৎসব ছিল বসন্তকালে, চৈত্র মাসে। কিন্তু নিঃসন্দেহে, শারদীয় নবরাত্রি বা অকালবোধনকে (রবিবার থেকে মহানবমী অব্দি) ভারতে প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে অনেক বেশি গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়।
-
নীলাচলের রথযাত্রায় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য
পুরীর রথযাত্রা বাঙালিকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা মনে করিয়ে দেয়, যিনি জগন্নাথের প্রতি চরম ভক্তি ও প্রেমের প্রদর্শনের জন্য পরিচিত ছিলেন।১৫১০ সালে সন্ন্যাস গ্রহণ করার পরে শ্রীচৈতন্য যখন পুরীতে পৌঁছেছিলেন, তখন তিনি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়েছিলেন যে জগন্নাথের মূর্তিকে আলিঙ্গন করার জন্য দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটেছিলেন।ফলে পুরীর মন্দিরের পুরোহিতরা তাঁকে পাগল ভেবেছিল এবং বিরক্ত হয়ে চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করেছিল ।
-
খালি পায়ের ইতিহাসবিদ
পরমেশ্বরন থনকপ্পন নায়ার বা পি টি নায়ারের প্রধান পরিচিতি, তিনি ছিলেন ‘বেয়ারফুট হিস্টোরিয়ান অব ক্যালকাটা’ বা ‘কলকাতার খালি পায়ের ইতিহাসবিদ’। জন্মসূত্রে মালয়ালি এই ইতিহাসবিদ ৯১ বছর বয়সে কেরলের আলুভায় তাঁর নিজের বাড়িতে মঙ্গলবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। বছর ছয়েক আগে কলকাতার পাট চুকিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন জন্মভূমিতে। আমি হারালাম এক ৪৫ বছরের পুরনো পারিবারিক বন্ধু আর এক অতি প্রগাঢ় কলকাতাপ্রেমী গবেষককে, যিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই শহরের ইতিহাস সন্ধানে।
-
স্ক্যামের নাম এক্সিট পোল
ভারতের শেয়ার বাজারে গত ৪ জুন যে পতন হয়েছে, তেমন ঐতিহাসিক পতন বিগত চার বছরে হয়নি। একদিনে শেয়ার বাজার এতটা পড়েনি। শেয়ার বাজারের সূচক হল সেনসেক্স ও নিফটি। যে মুহূর্তে খবরে প্রকাশ পেল যে অষ্টাদশ লোকসভায় ভারতীয় জনতা পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার দিকে এগোচ্ছে, সেদিন সেই মূহূর্ত থেকে সেনসেক্স ও নিফটিতে প্রায় ৫ শতাংশ পতন শুরু হল।
-
দেশের গণতন্ত্র জবাব দিয়েছে, উগ্র ধর্মান্ধতা অনেক হয়েছে আর নয়
মনে থাকবে। ১৯৬৭, ১৯৭৭ বা ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচন যেমন ইতিহাসে অন্যতম চাঞ্চল্যকর নির্বাচন হিসেবে স্থান পেয়েছে ঠিক তেমনই স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। কোনও সন্দেহ নেই মোদি জামানার পরিসমাপ্তির সূচনা ঘটল এবারের নির্বাচনে। এই দেওয়াললিখন তাঁকে ভবিষ্যতে কতটা সতর্ক করবে তা ভবিষ্যতেই বলবে।
-
মহাবীর এবং বাংলার পশ্চিম অঞ্চল
রাঢ় অঞ্চলে অবস্থিত সমগ্র বর্ধমান (পূর্ব এবং পশ্চিম), পার্শ্ববর্তী পুরুলিয়া, বীরভূম এবং বাঁকুড়ায় বেশ কয়েকটি ন্যাংটেশ্বর শিবমূর্তি পূজিত হয়। এগুলি প্রকৃতপক্ষে জৈন তীর্থঙ্করদের দিগম্বর মূর্তি। এগুলি প্রাচীন এবং মধ্যযুগে জৈনধর্মের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
-
রাঢ়প্রদেশে মহাবীরগাথা
মহাবীর জৈন ধর্মে প্রবর্তক। কিন্তু এই বাংলার সঙ্গেও যে রয়েছে তাঁর গভীর সংযোগ, অনেকে তা জানে না। মূলত, বাংলার পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে তাঁর সংযোগের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, যা প্রাচীনকাল থেকে 'রাঢ়' নামে পরিচিত।
Page 1 of 7
