All Bangla Content
তৃণমূল কংগ্রেস গোহারান হারার পরে যে বিধায়কদের হঠাৎ বিবেক জেগে উঠেছে — প্রায় সকলকেই আমি চিনি — তাঁদের কাছে আমার একটি আবেদন।
আপনারা দলের এই দুর্দিনে টিএমসি-বিরোধী সুনামি থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন। ভোটাররা আপনাদের পাঠিয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে — ঠিক যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী একনিষ্ঠ ভাবে তৃণমূল সরকারের একের পর এক পর্দা ফাঁস করতেন।
আজকের দিনে, অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভার বৈঠকে অখণ্ড বাংলার বিধায়করা বাংলা ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের স্মরণে ২০ জুন তারিখটিকে রাজ্য দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই — কিন্তু যখন কেউ বলে এটি কোনো এক বিশেষ ব্যক্তির কৃতিত্ব, তখন তা মানা বেশ কঠিন। প্রথমেই স্পষ্ট করে বুঝতে হবে যে. রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) বা হিন্দু মহাসভা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেনি।
আমরা সকলেই বিস্মিত ও মর্মাহত হলাম যখন ১৫মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি মামলার শুনানির সময়, মন্তব্য করেন “…ইতিমধ্যেই এমন কিছু পরজীবী আছে যারা ব্যবস্থার উপর আক্রমণ করে, আর আপনিও তাদের সঙ্গে যোগদিতে চান। এমন কিছু যুবক আছে যারা তেলাপোকার মতো, যারা বেকার … তাদের কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ আরটিআই কর্মী হয়, তারপর সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।”
প্রবাল ছিলেন এসপারেন্তো ভাষা প্রচারক কমিটির সভাপতি এবং এস্পারেন্তো ভাষায় পারদর্শী। লিখেছেনও কিছু প্রবন্ধ সে ভাষায়। ভাষাতত্ত্বের বাইরে সাহিত্য-দর্শন-রাজনীতি-সঙ্গীত, সকল বিষয়ে তিনি ছিলেন বিদগ্ধ ও রসজ্ঞ।
অনেক দিনের পরিচয় এবং যোগাযোগ। তাঁর ছিল একটা অসাধারণ সেন্স অব হিউমার, আন্তর্জাতিকতাবোধ এবং সৌজন্য।
পশ্চিম বঙ্গ এখন ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত রাজ্যে। আশা আসংখ্যার নতুন দোলাচল। অনেকে মনে করছেন বাংলার এখন কিছু উন্নতি হতে পারে। শিল্প, বিনিয়োগ আর চাকরির যে অকাল চলছিল তার এখন কিছু না কিছু সুরাহা হতে পারে। আমাদের ছেলে মেয়েরা বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচলেও বাঁচতে পারে।
পশ্চিমের পাঞ্জাবি রঘু রাই কারোর কাছে সহজে হার মানত না। তাই যখন উনি ক্যান্সারের সাথে লড়াই শুরু করলেন, যা চলল বছরের পর বছর, আমরা বলতাম ক্যান্সার বাবাজি জানে না কার সাথে টক্কর নিচ্ছে। অতএব হটাৎ তার চলে যাওয়াতে সত্যই হতভম্ব হলাম।
আমরা হারালাম শুধু ভারতের শ্রেষ্ঠ একজন আলোকচিত্রী নয়, সাথে হারালাম এই দেশের আধুনিক ফটোজার্নালিজমের এক কিম্বদন্তি পুরুষ ও রোল মডেল।
পশ্চিমবঙ্গ এখন সত্যি এক বড় বিপর্যয়ের মুখে, কারণ লক্ষ লক্ষ ভোটার বাদ গেছেন ভোটার তালিকা থেকে। আরও লক্ষ লক্ষ মানুষকে সব কাজ ফেলে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে নিজ অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হয়েছে। গত ৭৫ বছরে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এ ভাবে কখনও ঘটেনি।
মনে হচ্ছে বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাঁর পূর্বসূরিরা— সে সুকুমার সেনের মতো কিংবদন্তি হোক বা টি এন শেষন— সকলের কাজই ‘ভুল’ ছিল, তিনিই এক ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) অভিযান করে সব শুধরে দেবেন। তাঁর ফরমান হল— সমুদ্র খালি করে সব মাছ গোনা হোক, সৃষ্ট চাপে ও দমবন্ধ অবস্থায় কত মাছ মরে গেল সে দিকে তোয়াক্কা না করেই।
আমি যখন দেখলাম রাজ্য সরকার আমায় আমার PhD Thesis এর কাজ শেষ করার জন্যে কিছুতেই ছুটি দিচ্ছে না (অন্যদের দিয়েছিল), খানিকটা রাগ করেই আমি রাজ্যের ট্যাক্স কমিশনারের উচ্চ পদ ত্যাগ করে ও রাজ্য সরকার ছেড়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক হয়ে চলে গেলাম। ভাবলাম সবে আগের বছর সংসদীয় নির্বাচন হয়েছে, অতএব আর কয়েক বছর কোনও নির্বাচনের ঝঞ্ঝাট নেই, কাজের চাপও কম থাকবে।
২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতারা ধারণা করেছিলেন, তিনি যেহেতু রোগা-পাতলা এবং অভিজ্ঞতাহীন, তাই তারা তাঁকে ‘শোভাময়ী’ প্রধানমন্ত্রী করে রেখে নিজেরাই ক্ষমতা চালাবেন।
কিন্তু প্রথম দিন থেকেই তিনি নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন এবং প্রবীণ, মধ্যম ও প্রতিভাবান নবীন মন্ত্রীদের নিয়ে নিজের একটি ছোট দল গঠন করেন—যেমন প্রণব মুখার্জি। এরা কংগ্রেসের পুরনো গোষ্ঠীর রক্ষণশীল নীতি থেকে এতটাই সরে আসতে শুরু করলেন যে ১৯৬৯ সালে তাঁকেই—দেশের প্রধানমন্ত্রীকে—কংগ্রেস দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আবারও নতুন উদ্যমে তাঁর নিন্দার্হ কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত 'আমার সোনার বাংলা' গানটি গাওয়াকে 'রাষ্ট্রদ্রোহিতা' বলে দাগিয়ে দিলেন। তাঁর চোখে এমন কাজ করে যিনি কাঠগড়ায় 'আসামী', তিনি অসমের শ্রীভূমি জেলার এক বাঙালি কংগ্রেস নেতা, যিনি সরল মনে বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি সহজাত আবেগ থেকেই গানটি গেয়েছিলেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি — ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ যখন এই নিৰ্দিষ্ট গানটি তাদের জাতীয় সংগীত হিসাবে বেছে নিয়েছে তারপরও ভারতে থেকে এই গান গাওয়ার একটাই অর্থ — দেশের প্রতি বিস্বাসঘাতকতা। (অথচ কোন নথিতে এই গানের 'প্রোপাইটরি রাইট' বা কপিরাইট কেনার কথা উল্লিখিত বাংলাদেশের তরফে, তা বাপু জানা নেই. হেমন্তেরও জানা নেই — নিশ্চিত।) আমার কৌতুহলী মনে প্রশ্ন জাগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তো বাংলায় প্রচারে এসে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আকর্ষণ করার জন্য উচ্চকণ্ঠে 'আমার সোনার বাংলা' বলে আহবান জানান, যার ভিডিও প্রমাণও সুলভ, তবে কি হিমন্ত তাঁকেও 'রাষ্ট্রদ্রোহী' বলে দাগিয়ে দেবেন?
আমরা সকলেই জানি অষ্টম শতক থেকেআরব ব্যবসায়ী ও ধর্মপ্রচারকদের সঙ্গে ইসলামিসংস্কৃতি বাংলায় প্রবেশ করেছিল। আর এও জানি যে১২০৪ সালে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ারখিলজি বাংলার সেন বংশকে উৎখাত করে শাসনক্ষমতা দখল করেন। এর পরেই ইসলামের প্রভাববিস্তার হতে থাকে। এভাবে পূর্ব দিকে বাংলা হয়ে ওঠেদিল্লির নব্য প্রতিষ্ঠিত সুলতান বংশের অন্যতমপ্রদেশ।
ওদের নবরাত্রি, আমাদের দুর্গা। আদি নবরাত্রি উৎসব ছিল বসন্তকালে, চৈত্র মাসে। কিন্তু নিঃসন্দেহে, শারদীয় নবরাত্রি বা অকালবোধনকে (মহালয়ার পর থেকে মহানবমী অব্দি) ভারতে এক বৃহৎ অঞ্চলে অনেক বেশি গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়।
এই ন’ দিনের ক্ষেত্রে মা দুর্গা নিয়ে সারা ভারত একমত হলেও ভারতের অন্যান্য প্রদেশের থেকে বাঙালির উৎসব প্রায় সবসময়ই যথেষ্ট আলাদা। প্রথমে দেখা যাক দুটি ট্র্যাডিশান কেমন পাশাপাশি চলে এসেছে। এক দিকে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের ভগবান রামচন্দ্রদের পুজো যা প্রচুর ঘটা করে শেষ হয় দশেরার দিন রাবণ বধ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আর পাশাপাশি পূর্ব ভারতে মা দুর্গার যুদ্ধ আর জয়ের উৎসব। এই দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয় এই বলে যে রামচন্দ্র রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে অসময়ে দুর্গাপুজো করেছিলেন। কৃত্তিবাসের রামায়ণে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই শিউলি ফুল দেখে আমার একটা বড় দুঃখের কথা মনে পড়ল। আমি সারা জীবনের কোনও দিন গ্রামে মাটির বাড়িতে থাকিনি, পুকুরে স্নান করিনি, মাছ ধরিনি, গাছ থেকে মনের আনন্দে ফুল আর ফল তুলিনি। আমাদের গ্রাম ওপারে — এখন আর গ্রাম বলা যায় না, উপ শহর — পাকা রাস্তা, পাকা বাড়ি, আলো পাখা, ইত্যাদি। বাবা ১৯৭১এ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁর গ্রামে গিয়ে একেবারে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। সব এত ভয়ঙ্কর ভাবে বদলে গেছে — ভাল তো লাগলো কিন্তু বেদনা, প্রচুর ব্যথা পেয়েছিলেন — আরও গভীর। তিনি আর জীবনে কোনও দিন গ্রামে ফেরেন নি।
কলকাতা লন্ডন কবে হবে জানি না। কিন্তু কলকাতা যেন পৃথিবীর সবচেয়ে দৃষ্টিকটু ছেঁড়া-ন্যাকড়া রাজধানী হওয়ার কলঙ্কচিহ্ন থেকে মুক্তি পায়, এটুকু তো আমরা চাইতে পারি। একেবারে নির্জন কয়েকটি রাস্তা বাদ দিলে এই মহানগরের কোনও একটি ফুটপাত-ও নেই, যেখানে এই বিগত কয়েক বছরে সকলের চোখের সামনে হকাররা দখল করেননি। গড়িয়াহাট-রাসবিহারী, নিউ মার্কেট-এসপ্ল্যানেড বা বিধান সরণির কথা বলছি না। ওখানে তো কত ঐতিহ্য আছে— সেই প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায় আর সুভাষ চক্রবর্তীর ‘অপারেশন সানশাইন’-ও আমরা দেখেছি। হটিয়ে দেওয়ার পর নতুন স্টল যখন বসে, শুধু পাড়ার লিডার আর পুলিশের রেট বেড়ে যায়।
এমন অনেকে রয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় যাঁরা গুরুত্ব দিতে চান না, কিন্তু যখন বিজেপির বাঙালি ও বাংলা ভাষাকে সমূলে বিনাশ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, তখন কিন্তু তাঁর কথায় আমল না-দিয়ে তাঁদের আর উপায় রইল না। একমাথা বর্ষায়, ২১ জুলাই, কলকাতার কেন্দ্রস্থলে হাজার-হাজার অনুরাগী সমর্থক তথা বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। এরপর রবি ঠাকুরের বোলপুর থেকে হিন্দি ভাষার সাম্রাজ্যবাদী বিস্তারের বিরুদ্ধে শুরু করলেন 'দ্বিতীয়' ভাষা আন্দোলন।
আজকের বিপত্তারিণী পূজা আমাদের দেশে যে শত শত বিচিত্র উৎসব পালন করা হয় — তারই মধ্যে একটি। রথ যাত্রা আর উল্টো রথের মাঝের মঙ্গল ও শনিবার এই দেবীর পূজা কড়া হয় — সকল বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্যে। পশ্চিম ও উত্তর ভারতে যেমন বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য গণেশ কে পূজা করে, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা রাজ্যের অনেক অঞ্চলে বিপত্তারিণীর পূজা হয়। তিনি দেবী সঙ্কটনাশিনী এবং দেবী দুর্গা(পার্বতী)-এর ১০৮ অবতারের অন্যতম। দেবী দুর্গার ১০৮ টি রূপের মধ্যে অন্যতম হলেন দেবী সংকটনাশিনী আর বিপত্তারিণী তাঁরই এক স্বরূপ।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বাংলায় প্রায় ২৬০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিল হচ্ছে। এই রকম আঘাতের পর, বোঝাই যাচ্ছে, বাংলা আবার উত্তাল হতে চলেছে, আবার এক বা একাধিক আন্দোলন শুরু হব হব করছে। মুখ্যমন্ত্রী এটা আঁচ করে, মরিয়া হয়ে এক হাত খেললেন। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে শিক্ষকদের ডাকলেন আর চেষ্টা করলেন গরম হাওয়াটা তাঁর পালের দিকে টানতে। কিন্তু তিনি কোনও স্পষ্ট আশ্বাস তো দিতে পারেনইনি, বরং জল আরও ঘোলা করে দিলেন। উনি শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় স্কুলে পড়াতে যাওয়ার কথা বলেছেন।
রবি ও সোমবার সরস্বতী পুজোর পর অনেক বাঙালির বাড়িতে, বিশেষ করে ঘটি পরিবারদের মধ্যে, গোটা সেদ্ধ খাওয়া হয়ে থাকে। আসুন জেনে নিই কেন এই গোটা সেদ্ধর প্রথা মানা হয়। পঞ্চমীর দিন সরস্বতী পুজোর পরেরদিনই সকালে ষষ্ঠী তিথিতে হয় ষষ্ঠী পুজো আর গোটা সেদ্ধ পর্ব।
সব সৃজনশীল ব্যক্তিদের মতো রাধাপ্রসাদ গুপ্ত — যাঁকে সকলে RP বা শাঁটুলবাবু বা 'দা' সম্বোধন করত । তিনি নিজের সৃষ্টি বা রচনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন, তাঁর লেখা গুছিয়ে রাখার কাজে সময় নষ্ট করতেন না ৷ আমরা কেউ জিজ্ঞেস করলে তিনি হঠাৎ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন, এবং তাঁর আরাম কেদারায় বসে চিন্তা করতেন। তারপর লাফিয়ে উঠতেন আর একগাদা কাগজ ফাইল ঘেঁটে অনেকক্ষণ পরে একটি হাতে লেখা বা টাইপ করা কাগজ বের করে বলতেন “এই দেখ। হতভাগাটাকে পেলুম। কোথায় কোথায় যে লুকিয়ে থাকে! আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি এটি অমুকের জন্যে লিখেছিলেন লিখেছিলাম।” আমরা ওই লেখা পড়তাম আর প্রয়োজন হলে তাঁর খাওয়ার টেবিলে বসে নিজের হাতে কপি করতাম। জেরক্স টেরক্স ছিল না।
মনমোহন সিংহ কখনও নিজের সমস্যা নিয়ে অন্যের কাছে মুখ খুলতেন না। নীরবে যন্ত্রণা সহ্যকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর তাই আমরা প্রায় জানিই না তাঁর স্বাস্থ্য কতটা ভেঙে পড়েছিল, আজ আচম্বিতে চলে যাওয়ার পর যেন সম্বিৎ ফিরল।
